ক্রিকেট স্মৃতি
২০০০ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এশিয়া একাদশ এবং বিশ্ব একাদশের মধ্যে অনুষ্ঠেয় ক্রিকেট ম্যাচের হাইলাইটস দেখছিলাম ইউটিউবে। অনেকটা নস্টালজিক হয়ে পড়লাম। প্রায় ১৫ বছর আগের ম্যাচ। ঐতিহাসিক একটা ক্রিকেট ম্যাচ। শ্বাসরুদ্ধকর সে ম্যাচে এশিয়া একাদশ ১ রানে জয়লাভ করে।
কি ছিল না ম্যাচটিতে? এশিয়া আর বিশ্ব ক্রিকেটের তারকাদের মাঠ মাতানো পারফরম্যান্স।স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ৫৫০০০ দর্শকের উপচে পড়া ভিড়! শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টান টান উত্তেজনা বিরাজমান ছিল ম্যাচটিতে! কিছুক্ষণের জন্যে হারিয়ে গেছিলাম সেই আট বছর বয়সে। তখনকার ক্রিকেট এতটা জাঁকজমক ছিল না। ছিল না পাওয়ারপ্লে, ছিল না ছক্কা কিংবা চারের পর চিয়ার লিডারদের আগমন, ছিল না অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি। কিন্তু তবুও ১৫ বছর আগের খেলা কিভাবে যেন এক নিঃশ্বাসে দেখে উঠলাম। একটা মুহূর্তের জন্যেও বিরক্তি আসে নি। পুরনো ম্যাচ, ফলাফলও জানা ছিল, তবুও একটা চাঁপা উত্তেজনা ভর করেছিল সর্বক্ষণ নিজের ভিতর। গুণে গুণে দেখলাম তখনকার কেউই এখন আর মাঠের ক্রিকেটের সাথে জড়িত নেই। অবসরে চলে গেছে সবাইই। শচীন, জয়সুরিয়া, সৌরভ, ওয়াসিম, মঈন, রাজ্জাক, মুরালি, ক্লুজনার, বেভান, মার্ক ওয়াহ, ক্যাডিক, হেওয়ার্ড সবাই অবসরে চলে গেছে। এখনকার খেলা দেখতে গেলে ঐ মুখগুলোকে ভীষণ মিস করি। কেন জানি এই কারণেই এখন আর খেলা দেখতে অতটা মন টানে না।
বাণিজ্যিকিকরণের এই যুগে খেলার ভিতরেও বিনোদনের অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে, কিন্তু কেন জানি কোথ থেকে আবেগটা কমে গিয়েছে খেলার প্রতি। মনে পড়ে যায় বৌলতলির সে সব দিনের কথা, যেখানে বোর্ডিঙে রাতের খাবারের বিরতি হলে সব গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম আশেপাশের ঘরের জানালার কাছে। খেলা হচ্ছে। খেলা দেখতেই হবে। যে দলেরই খেলা হোক। বেলগাছি থাকতে কতবার চায়ের দোকানে টিভি দেখতে বসে গেছি খেলা দেখবার জন্যে ঘরে টিভি ছিলোনা সেজন্যে। আজ ইয়টিউবে সেই ম্যাচটি দেখতে গিয়ে হারিয়ে যাচ্ছিলাম সেইসব স্মৃতির ভিড়ে। অনেক ভালো লাগে এসব মনে পড়লে কেন জানি। আপন মনেই হাসি চলে আসে। একটু কষ্টও লাগে, মনে হয় আবার ঐ সব দিনে ফিরে যাই, সময়টাকে আটকে রাখি শিকল দিয়ে।
যদি পারতাম...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন