মাছের রাজ্য বাগেরহাট
মনে আছে এই কে বি মাছের বাজারে গতবছর কোন এক ভোরে অন্ধকার থাকতে থাকতে তাজা ইলিশ মাছ কিনতে গিয়েছিলাম।ভেবেছিলাম যেয়ে হয়তো ফাঁকা থাকতে থাকতে মাছ কিনে চলে আসবো। ওরে বাবা!!! পৌঁছে গেছি ০৬ঃ০০ টার দিকে, যেয়ে দেখি, সে কি ভিড়। চতুর্দিক থেকে মানুষ হুমড়ি খেয়ে ঢুকছে মাছ কিনতে। ইলিশ মাছ, পাশে বড় বড় মাছ ধরা ট্রলার এসে ভিড়েছে। ঝুড়ির পর ঝুড়ি মাছ নামছে, আর নিমেষেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
রূপালি ইলিশ। এখান থেকে এই সময়টাতে কিনতে পারলে কিছুটা সাশ্রয়ে পাওয়া যাবে, আর একদম মাত্র শিকার করে আনা মাছ কেনা যাবে। আর এজন্যেই ভোর বেলাতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসেছে মাছ কিনতে। আমি আর আমার সাথে আরো কয়েকজন ছিলেন মাছ কিনতে এসেছেন একই এলাকা থেকে। বাজারের ভিতর দাঁড়িয়ে কিনবার জো নেই, শেষে ব্যাপারীকে সাথে করে নিয়ে পাশের একটা ফাঁকা জায়গাতে গিয়ে দরদাম করে সাড়ে সাত কেজি এর মতো মাছ কিনে বাড়ি এসেছিলাম। আকারে মাছগুলো অনেক বড় ছিলো না, মাঝারি থেকে কিছুটা বড়। কিন্তু স্বাদ! আহা!!! স্বাদ আসলে বর্ণনার বাইরে।
ছবি দেখে সেই ভোর বেলায় হারিয়ে গেলাম।
মাছের রাজ্য বাগেরহাটে হারিয়ে গেলাম। জীবনে কখনো মাছের প্রতি এতোটা ফ্যাসিনেশন ছিলো না যতটা বাগেরহাট গিয়ে হয়েছিলো। রুই, কাতলা, বোয়াল, কাচকী, পাবদা, পাইস্বা(আঞ্চলিক), বেলে থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ যেমন, মেধ মাছ, কংকন মাছ, রূপচাঁদা মাছ, জাভা মাছ, ঢেলা মাছ, ভেটকি মাছ এতো এতো মাছ খেয়েছি। দুপুরের খাবারটা আমি হোটেলেই খেতাম, কিন্তু হোটেল্গুলোও এতো সুন্দর করে রান্না করতো যে মাংসপ্রিয় আমি বাগেরহাট গিয়ে মাছের ভক্ত হয়ে গেলাম। কাতলা মাছের মাথা দিয়ে কি মজা করে যে মুড়িঘন্ট রান্না করতো মিনা হোটেলে, আহা!
মেধ মাছ ভুনা, ইলিশ মাছ ভুনা করবে সাথে হালকা ভুনার ঝোল, কি যে স্বাদ, আমি লিখছি আর জিহ্বা মিনার খাবারে হারিয়ে যাচ্ছে ।
এমনো হয়েছে আমার যে টানা দশদিন আমি ইলিশ ভুনা খেয়েছি মিনাতে, একটা বারের জন্য মেনু চেঞ্জ করার ইচ্ছা হয় নি।
মিনা হোটেলের লোকদের কাছে জানতে চাইতাম, মাছ আনে কোথ থেকে এরা। ওরাই বলেছিলো কেবি মাছের বাজার থেকে।
আর আমিও কেবি মাছের বাজার থেকে মাছ কিনে বুঝেছিলাম আসলেই কেন বিখ্যাত এই মাছের আড়ত





মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন