শৈশবের কলম

একগুচ্ছ শৈশবের ছটা হাতের কাছে ফিরে পেলাম। শৈশবের একটা বড় অংশ পার হয়েছে ইকোনো ডিএক্স কলমে লিখে। চাকুরী জীবনের এই অধ্যায়ে এসে আবারও সেই হস্তসংগীকে খরিদ করলাম।

দিন কয়েক আগে রকমারি.কম সাইটের একটি বিজ্ঞাপন আমার ফেসবুকে চোখে পড়ে, দেখলাম এই কলমগুলোর বিজ্ঞাপন। অনেক দিন থেকেই খুজছিলাম। তাই দেখে আর লোভ সামলাতে পারলাম না। শৈশবে যা তিন টাকা দিয়ে কিনতাম, এখন পাঁচ টাকা দিয়ে পার পিস কিনলাম। দামে কি বা আসে যায়!!!
কিছুক্ষণ আগে হাতে পেলাম। দশটা ইকোনো ডিএক্সের সাদা, নীল আর কালো হলুদ স্ট্রাইপের কলম অর্ডার করেছিলাম, সাথে আরো দশটা অলিম্পিক এর হলুদ কালারের কলম অর্ডার করেছিলাম।
জাস্ট হাতে পেতে যতক্ষণ। পাওয়ার সাথে সাথেই আনবক্সিং। তর একদম সইছিলো না৷ বক্স খুলবার সাথে সাথে ক্ষণিকের জন্য শৈশবকে রোমন্থন করলাম।
প্রাত্যহিক লিখালিখির জন্য ইকোনোই ছিলো সংগী। কখনো সাদা, কখনো নীল, কখনো হলুদ, কালো স্ট্রাইপের ডিজাইনের কলম। আবার ইকোনো এর একই ডিজাইনের বাইরে থেকে কালি দেখা যায়, এমন স্বচ্ছ অবয়বের কিছু কলম কিনে লিখতাম। সেটা আর রকমারিতে পাই নি।
কলমগুলোর ডিজাইন একইরকম আছে, তবে কলমের মুখের ডিজাইন কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে দেখলাম। আগে ডিজাইনটা ছিলো একদম খাজ খাজ, এখন সেটা একেবারে মসৃণ করে ফেলেছে। কলমের নীভেও কিছুটা পরিবর্তন দেখলাম। আগে ছিলো মোটা মাথা, এখন একদম চিকন, বর্তমান যুগের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে এই অবস্থা বোধ হয়।
আর অলিম্পিকগুলো ডিজাইনেরও পরিবর্তন হয়েছে, আগে ছিলো খাজ খাজ, এখন হয়েছে একদম গোলাকার মসৃণ। আগে শীস টেনে খুলে ফেলা যেতো মাথার দিক থেকে, এখন সেটা টাইট করে এটে দেওয়া।
কিছুক্ষণ দাগালাম। ঘ্রাণ নেওয়ার চেষ্টা করলাম। নাহ, ঘ্রাণটা আগের মতো নেই। হালের বলপেনদের মতোই ঘ্রাণ। কিছুটা নিরাশ হলাম।
যাক, শতভাগ মিলবে না এটাই স্বাভাবিক। তবে বাহ্যিক অবয়বটা দেখলেই অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে৷ সামান্য একটা কলমই তো, কিন্তু আবেগটা একটু বেশিই বোধ হয় কাজ করছে।
শিক্ষা জীবনের হস্তসংগী, পেশাগত জীবনেও চলুক...


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি