ভয়ংকর রাত
প্রায় সারাটা রাতই বিদ্যুৎবিহীন, গরমে ঘেমে নেয়ে একদম একাকার। সাথে আছে মশারী না টানালে মশার উপদ্রব। আজ প্রায় ৪টা রাত একইভাবে পার হচ্ছে। অবস্থার উন্নতি তো দূরের কথা, রোজ রাত যেন আগের রাতের দুর্ভোগকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পাল্লা দিচ্ছে।
ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের থেকে অন্তত দুই তিন ডিগ্রি বেশি। দুপুরের পর থেকে সূর্যের তাপ একদম সোজাসুজি আমার রুমের জানালা দিয়ে ঢুকে রুমের উত্তাপকে আরো বাড়িয়ে তোলে। বিছানা থেকে শুরু করে খাবার পানি, সব যেন টগবগ করে ফুটছে।
রুমে চার চারটে ফ্যান সেট করা, একটা স্ট্যান্ড ফ্যান, একটা টেবিল ফ্যান, একটা ছোটো চার্জার ফ্যান, আর মাথার উপর একটা সিলিং ফ্যান। কিন্তু ফ্যানগুলো যেন শুধু গরমকে টেনে আমার শরীরে পৌঁছে দেওয়ার কাজেই নিয়োজিত। ফ্যানগুলো ছাড়লে মনে হয় যেন আগুনের হলকার পাশে বসে আছি। ঘর্মাক্ত শরীরের ঘাম যেন আরো ঠিকরে বেরোতে থাকে। বিগত টানা কয়েক দিন রাত মিলিয়ে মনে হয় রেকর্ড পরিমাণ ঘেমেছি৷ যেখানে বসছি কিংবা শুচ্ছি, ঘামের চিহ্ন রেখে যাচ্ছি অবলীলায়।
দিনটা পার করা মুশকিল নয়, কাজের ভিতর থাকি, একদিক দিয়ে পার হয়েই যায় এই দাবদাহতেও। কিন্তু রাত? তাও ঠিক রাত ১১:০০টা বাজার পর থেকে লোডশেডিং রীতিমতো এক আতংকে পরিণত হয়েছে। ঐ সময়টায় হয়তো ছাদে গেলে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে ভেবে ছাদে যাই, কিন্তু কিসের কি? বাতাসই তো নেই, হঠাৎ হালকা বাতাসের ঝটকা গায়ে এসে লেগে মনকে শীতল হওয়ার আশায় ভরিয়ে দেওয়ার পরক্ষণেই আবারও আকাশের বর্ষণের বদলে অঝোর ধারায় শরীর দিয়ে ঘামের বর্ষণ শুরু হয়। রাতের ঘুমের সময়টুকু যদি বিদ্যুত বিভ্রাটের জন্য নির্ঘুমেই পার করতে হয়, তাহলে একটা মানুষ কিভাবে সুস্থ থাকবে? কিভাবে দিনে কাজ করবে, কিভাবে মনোনিবেশ করবে, কিভাবে প্রোডাক্টিভিটি বাড়াবে, দিনশেষে নিজের ক্ষতি, দেশের ক্ষতি, দশের ক্ষতি।
বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ রাতের বেলার এই অত্যাচারটুকু কমিয়ে আনুন, দরকার হলে বিকেল সন্ধ্যায় টর্চার করুন। খুবই ক্লান্ত অবসন্ন ভগ্ন মনে লিখতে বসেছি, এ মুহুর্তেও বিদ্যুত নেই, অলরেডি ঘন্টা দেড়েক পার হয়েছে।
হে খোদা, আমাদের উপর রহমতের বর্ষণ দিন, আজ আকাশের দিকে তাকিয়ে বর্ষার আকাঙ্ক্ষায় চোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু ফেলে এক আপনার কাছে প্রবল বর্ষণের কামনা করি, আপনি এই ধরায় প্রশান্তি দিন, আমিন!!!
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন