খতমে কোরআন

যতদূর মনে পড়ে শৈশবে বৌলতলী থাকতে আরবী হরফের সাথে আমার হাতে খড়ি হয়। সেখানে প্রথমে একজন মসজিদের ইমাম সাহেব আমাকে আমপারার মাধ্যমে আলিফ বা তা ছা... দিয়ে আরবী শেখাতে শুরু করলেন। আস্তে আস্তে যখন পড়ায় পরিপক্বতা এলো, আমপারা ছেড়ে পবিত্র কোরআন পড়া শুরু করলাম। এরই মধ্যে আমার আরবী হরফের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সেই হুজুর ইন্তেকাল করলেন। তাঁর কাছে আর পড়ার নসীব হলো না। অতঃপর আরেকজন মৌলভীকে ঠিক করে দেওয়া হলো। তিনি পূর্বের হুজুর অপেক্ষা বয়স্ক এবং চুল দাড়িতে পাক ধরে বয়সটাও তাঁর খানিকটা বেশি। হুজুর আসতেন, পড়াতেন, চলে যেতেন, বকার সময় বকতেন, এসে প্রথমে কিছুদূর পড়ে তারপর চুপ করে টানা আমার পড়া শুনতেন। আমি পড়তাম, তিনি ঠায় বসে চুপ করে শুনতেন, মাঝে মাঝে আমি ধন্দে পড়ে যেতাম হুজুর কি ঘুমিয়েই গেলেন কিনা! না, হুজুর ঠিকই আমার পড়া শুনতেন, যখনি ভুল পড়তাম, সাথে সাথেই হুজুর সরব হতেন। এভাবেই হুজুরের কাছে আমার পড়া চলতে থাকে।

ওহ হ্যাঁ, এর আগে বলে নেই, কোরআন শুরু করার আগে একটা কোরআন শরীফ বৌলতলী বাজার থেকে আব্বা কিনে আনেন। কোরআনটি আজ অবধি বাসায় যত্ন করে রাখা আছে। পাতাগুলো খানিকটা মলিন হয়ে গিয়েছে, তবে মলাটটা এখনো তেমনই আছে। কোরআনটা আমার ঘরেই রাখা আছে, ঢাকায় বাসায় গেলেই আমার চোখের সামনেই থাকে। 

তো হুজুরের কাছে আমি মোটামুটি নিয়মিতই পড়ে পড়ে কোরআন শরীফ পাঠে ধীরে ধীরে পাকাপোক্ত হতে থাকলাম। এর মধ্যে আবার যখন ছুটিছাটায় খুলনা যেতাম, আমার খালাত বোনকে সেখানে পড়াতে এক হুজুর আসতেন, মনে আছে তাঁর কাছেও দিন কয়েক পড়েছি। আবার বৌলতলী ফিরলে আমার সেই চিরচেনা বৃদ্ধ হুজুরের কাছেই পড়তাম। হুজুর আমাকে পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে নানা গল্প বলতেন। হুজুর ওমরায় গিয়ে এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছিলেন, আমাকে বলেছিলেন। তাঁর মতো আরেকজন ওমরাযাত্রী নবীজী(সাঃ) এর রওজা পাক জিয়ারত করার সময় নিরাপত্তা রক্ষীদের বাধা উপেক্ষা করে নবীজি(সাঃ) এর রওজা পাকের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন, হুজুর সেটা নিজে দেখেছেন। এমন নানা অভিজ্ঞতা, গল্প তিনি আমাকে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে বলতেন। একবার হুজুর আমাদের সবাইকে তাঁর বাসায় দাওয়াত দিয়েছিলেন। হুজুরের বাসায় খাবারের অনেক আইটেম থাকলেও এক সুস্বাদু নুডলস বাদে আর কিছু আমার এখন আর মনে নেই। নুডলসের মধ্যে তেহারীর মতো ছোটো ছোটো গোমাংসের দানা পেয়ে আমি গোগ্রাসে সেই নুডলস গিলেছিলাম :D

আব্বার যখন বৌলতলী থেকে রাজবাড়ী বদলী হয়ে গেলো, আমার শৈশবের দ্বিতীয় হুজুরের কাছে কোরআন পড়ার সেখানেই ইতি টানতে হলো। আমার আসলে ঠিক মনে পড়ছে না, তখন আমি পবিত্র কোরআন শরীফের ১৬ কি ১৭ পারাতে ছিলাম। অর্থাৎ কোরআন খতম দেওয়ার খুব কাছাকাছি চলে এসেছি বলা যায়। সে মুহুর্তে আব্বার বদলী হয়ে যাওয়ায় কোরআন পড়ার ধারাবাহিকতায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটলো। নতুন জায়গায় গিয়ে আর নতুন হুজুর নেওয়া হয় নি, কোরআন পড়াটা ঐ পর্যন্তই আটকে যায়। এরপর ক্লাসের পড়া, পরীক্ষা নানাবিধ চাপে কোরআন পড়াটা আর পুনরায় শুরু করা হয় নি। এভাবে কেটে যায় অনেকগুলো বছর। এর মধ্যে আবার রাজবাড়ী থেকে ঢাকায়ও আব্বার বদলী হলো, সেখানেও নতুন করে আর পড়া শুরু করা হয় নি। 

ঢাকার মিরপুরে থাকাকালীন তখন ২০০৯ সাল হবে সম্ভবত, আমি সকাল বেলায় কিছুদিন বাসার সামনের বাইতুল আমান জামে মসজিদে চলে যেতাম কোরআন পড়তে। সকাল বেলায় ছোটো ছোটো বাচ্চারা সেখানে এসে কোরআন শিখতে আসতো, আমার কাছে মনে হলো আমিও তাদের সঙ্গী হই। দুঃখের বিষয় এই যে, মনে হয় ০৪ কি ০৫দিন গিয়েছিলাম। আর যাওয়া হয় নি। 

এরপর পার হয়ে গেলো আরো লম্বা সময়, আল্লাহ পাকের পবিত্র কালামের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। এদিকে কোরআন পড়াও প্রায় ভুলতে বসেছি। এটা যে কত বড় হতাশার আর গোনাহের, তা বলে বোঝানো সম্ভব না। অনার্স, মাস্টার্স করে পড়ার পাঠ চুকিয়ে চাকুরীতে ঢুকলাম, ব্যস্ততা, অবসর সব মিলিয়েই দিন যাচ্ছে, কিন্তু সময় করে আর ইচ্ছে করে এই কোরআন পড়াটাই শুরু করতে পারলাম না। কোরআন খতমের আকাঙ্ক্ষা আমার অধরাই রয়ে গেলো।

২০২২ সালের শেষ নাগাদ, সেপ্টেম্বর কি অক্টোবর মাসের কথা। হঠাৎ আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি কোরআন পড়া আবারো শুরু করবো, যে করে হোক আমাকে খতম দিতে হবে। কখন হুট করে মারা যাই ঠিক নেই, মরে গেলে কি জবাব দিবো রবের দরবারে। সেই ১৬/১৭ পারায় এসে আর কোরআন পড়ি নি। কি হতভাগা আমি!!! আমাকে আবার কোরআন পড়া শুরু করতে হবে, খতম আমাকে দিতেই হবে। 

এর কিছুদিন আগে এক হাফেজ নাম "হাফিজুল" আমার অফিসে এসেছিলো তাঁর এক প্রয়োজনে। সেখান থেকে তাঁর সাথে পরিচয় হয়, কিন্তু তখনো কোরআন পড়ার দৃঢ় ইচ্ছা মনের মধ্যে তৈরি হয় নি। তো সেই হাফিজুলকে আমার খুব আন্তরিক মনে হয়েছিলো, ভাবলাম, এখন একজন ওস্তাদ যদি আমাকে অন্তত সঠিকভাবে কোরআন পড়ার রাস্তায় উঠিয়ে দিতে পারতো, তাহলে পড়াটা চালিয়ে যেতে আমাকে বেগ পেতে হতো না। কারণ এতো বড় একটা গ্যাপ, হরফও ঠিক মতো স্মৃতিতে নেই। এভাবেই কোরআন পড়তে গেলে শুধু হতাশই হবো। তো অনেক ভেবে চিনতে সেই হাফিজুলকে খুঁজে বের করলাম উদ্যোক্তা সামাদের মাধ্যমে। সামাদ আমার অত্যন্ত মাই ডিয়ার একজন লোক, তাঁকে যাই বলি, কখনো না তো বলেই না, বরং কাজটা সে করে দিয়েই ক্ষান্ত হয়। সেই সামাদের ইউনিয়নেরই বাসিন্দা হাফিজুল।

হাফিজুল আমাকে ফোন দিলো, তাঁকে বিস্তারিত বললাম। সব শুনে হাফিজুল রাজী হয়ে গেলো, তবে বিপত্তিটা বাধলো এখানে যে, হাফিজুল বাড়ি থাকে না, সে মৌলভীবাজারে পড়াশুনার পাশাপাশি টুকটাক কাজও করে, সপ্তাহে শুক্রবার শুধু নবীগঞ্জ আসে। আমি বললাম, "তুমি একদিন হলেও আমাকে সময় দাও।" হাফিজুল রাজী হয়ে গেলো। 

নবীগঞ্জ আমার কাছে কোরআন শরীফ ছিলো না। হাফিজুল যেদিন প্রথম আমাকে পড়াতে আসে, নিজেই নিজের বাসা থেকে একটা কোরআন শরীফ আনে। হাফিজুল বললো,"স্যার, আপনি পড়েন, সমস্যা নাই। এটা আর ফেরত দিতে হবে না।" ঐ হাফিজুলের বাসার সেই কোরআন দিয়েই আবার পড়া আরম্ভ করলাম।

আগেই বলেছি, দীর্ঘদিনের গ্যাপ, আর এটা বাংলা ভাষা না যে বিনা বাঁধায় পড়ে ফেলতে পারবো। সুতরাং যা হওয়ার তাই হচ্ছে। একটা অক্ষর চিনি তো আর একটা চিনি না। একটু ঠিক পড়ি তো আরেকটু ভুল। হাফিজুল পুরোটা সময় আমার ভুল পড়াকেই কারেকশন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলো। আমি নিজেও কিছুটা হতাশ হয়ে পড়লাম। খুব বিব্রত হচ্ছিলাম মনে মনে। এভাবে তো পড়তেই পারবো না। এর মধ্যে হাফিজুল আমাকে সান্ত্বনা দিতে থাকলো,"স্যার, আবার শুরু করার নিয়ত করছেন এটা অনেক বড়, ঠিক হয়ে যাবে পড়া, আল্লাহ ভরসা।"

প্রথম দিন আসার পর হাফিজুল আরও ৩দিন এসেছিলো। পড়ার গতি অত্যন্ত ধীর আর ভুলের আশংকা থাকায় পরিমাণটাও অনেক কম ছিলো, দেখা যেতো ১০ কি ১৫ আয়াতের বেশি পড়তে পারতাম না। এমন অবস্থা দেখে হাফিজুল নিজেই আমাকে বলে বসলো,"স্যার এভাবে পড়লে গুনাহ হয়, কারণ অনেক ভুল হচ্ছে। আমি আপনার জন্য আমপারা কিনে আনবো কাল, আপনি ঐখান থেকে শুরু করেন, এভাবে পড়ে আগানো মুশকিল।"

কথাটা আমার জন্য কি যে লজ্জার আসলে বলে বোঝানো যাবে না। লাজ লজ্জা ফেলে হাফিজুলের কথাতে সায় দিলাম। এর মধ্যে আমি নিজেও পিসিতে একটা "At-Tibyan" নামের একটা অডিও বুক ছিলো, সেটা পড়তে থাকলাম। বইটা আমার বন্ধু রাসেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই সংগ্রহ করেছিলাম। ঐখান থেকে আমি একটু নিজে নিজে স্টাডি করে হরফগুলো ভালো ভাবে ঝালিয়ে নিতে চেষ্টা করতে থাকলাম। কোরআন পড়ার সময় এবং ধারাবাহিকতাও বাড়িয়ে দিলাম। সপ্তাহে একদিনের জায়গায় প্রতিদিন শুরু করলাম, আস্তে আস্তে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস চলে এলো। পড়া কিছুটা উন্নত হলো। কিছুটা বলতে ভালোই অগ্রগতি অর্জন করলাম নিজেই। বলে রাখি, হাফিজুল তখনো আমপারা আনে নি, আর এর মধ্যে হাফিজুলও ব্যস্ততার কারণে ৮-১০  দিন আসে নি। 

তো আমি নিজেই হাফিজুলকে বললাম, "আমপারা আপাতত এনো না, একদিন আসো, পড়ার অবস্থা দেখো, তারপর লাগলে আনো।" হাফিজুল দুইদিন পরই এলো। এক ঘন্টা পড়েছিলাম সেদিন। যে হাফিজুল আগের চার দিন আমার ভুল ধরতে ধরতেই ক্লান্ত, সে সেদিন পুরোটা সময় চুপ করে থাকলো, মাঝে মনে হয় দুই তিনবার আমাকে শুধরে দিয়েছে। পড়া শেষ করার পর আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মাশআল্লাহ বলে একটা কথা বললো হাফিজুল, আমি মরার আগ দিন পর্যন্ত ভুলবো না। "আল্লাহ যারে তৌফিক দেয়, সে কোনোভাবে আটকে থাকে না। আপনেও আর আটকাবেন না স্যার ইনশাআল্লাহ!" আমি মৃদু হেসে আমার প্রশান্তি প্রকাশ করলাম।

এরপর আর হাফিজুল আসে নি। আমিও আর আমার পড়া থামাই নি। নিয়মিত পড়েছি। সপ্তাহে দুয়েকদিন বাদ দিয়েছি, তাও যদি ব্যস্ততা থাকতাম সেজন্য। এমনো হয়েছে, আমি বেড়াতে খুলনা গিয়েছি, মাগরিবের নামাজ পড়তে পড়তে মসজিদে ঢুকেছি, নামাজ শেষে কোরআন পড়েছি ৩০মিনিট। ঘুরতে গিয়েছি বলে পড়া থামাই নি। প্রথম প্রথম ১০ আয়াত পড়তাম, এরপর ২০,২৫,৩০ এভাবে করে পরিমাণ বাড়িয়েছি। চলতে থাকলো পড়া। আমি বলবো না যে, একদম সহীহভাবে আমি পড়েছি, তবে এটা সঠিক যে আগের থেকে ঢের ভালো হয়েছে কোরআন পাঠের গুণমান। 

এভাবে পড়তে পড়তে রমজান মাস চলে এলো। আমি কোরআন শরীফের ঠিক মাঝে চলে এসেছি, অর্থাৎ ১৫পারায় চলে এসেছি। আমার লক্ষ্য ছিলো আমি ২০২৩ এর মধ্যে কোরআন খতম দিবো। হঠাৎ আমার মাথায় চেপে বসলো, আমি এই রমজান মাসেই কোরআন খতম দিবো। একটা কথা আছে,"নিয়ত গুণে বরকত!" আমার মনে হয় অন্তরীক্ষের উপরে যিনি বসে সবকিছুর উপর নিরীক্ষা করে চলেছেন দিন রাত্রি, তিনিও এমনটাই চেয়েছিলেন। না হলে যে আমি প্রতিদিন ১০ আয়াত করে পড়তাম, সর্বোচ্চ হয়তো ৪০ আয়াত পর্যন্ত পড়েছি কোনো দিন, সেই আমি কিভাবে এক পারা পড়ার সাহস অর্জন করলাম। হ্যাঁ ঠিকই বলছি, আমি রমজান শুরুর পর থেকে পড়ার গতি এতোটা অর্জন করলাম যে, প্রথম কয়েক রোজার পর প্রতিদিন এক পারা করে পড়েছি।

আমার মনে আছে, দুপুরে অফিস থেকে এসে ২ঃ৩০ এর দিকে কোরআন নিয়ে বসতাম, একদম আসরের আগ পর্যন্ত পড়তাম। প্রায় প্রতিদিন ২০০ করে আয়াত পড়েছি। এভাবে ২০পারা শেষ করে রোজার মধ্যে খতম দেওয়ার জন্য আরো মরিয়া হয়ে উঠলাম। ২০ রমজানের পর আমি কিছুটা ঢিল দেই পড়ায়, কারণ, ততদিনে আমি অনেক বেশি এগিয়ে গিয়েছি। আর তখন পড়তে বেশ আরাম লাগতো। সূরাগুলো ছোট হয়ে এসেছে, তবে যখনি মাক্কী সূরা পেতাম, খুব মজা লাগতো, কারণ মাক্কী সূরায় আয়াত গুলো ছোট থাকে, পড়তে বেগ পেতে হয় না, আর মাদানী সূরাগুলো দৈর্ঘ্যেও বড়, পড়তেও বেশ সময় লাগতো। 

১৯এপ্রিল, ২৭ রমজানের দিবাগত রাত ০১ঃ০০টার আশপাশ হবে। আমি সেদিন দুপুরে কোরআন পড়ি নি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পবিত্র শব-ই-কদরের রাতে কোরআন খতম দিবো নিয়ত করেছিলাম, তাই সেই রাতেই পড়া শুরু করলাম। ৩০ তম পারা শুরু করলাম, সূরাগুলো অনেক ছোট হয়ে আসছে। শৈশবের পরিচিত সব সূরা গুলো একের পর এক পড়ে ফেলছি। পড়ার মাঝে মাঝে আবেগাআপ্লুত হয়ে পড়ছি, দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন আল্লাহর অশেষ রহমতে আল্লাহ তৌফিক দিলে আজ রাতে শেষ হবে। পড়তে পড়তে সূরা ফীল, সূরা কুরাইশ, সূরা মাউন, সূরা কাউছার, সূরা কাফিরূন, সূরা নাসর, সূরা লাহাব, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব, সূরা নাস, এরপর আবারো সূরা বাক্বারার প্রথম কিছু আয়াত(খতমের নিয়মানুযায়ী) পড়ে একদম খতমের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলাম। কোরআন খতমের দোয়াটাও নিজে নিজে নিয়মানুযায়ী পড়লাম। শেষ করে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলাম। মোনাজাতে চোখের পানি ঢেলে  দিলাম, কান্না থামাতে পারছিলাম না সেই মধ্য রাতে, গোঁ গোঁ করে চিৎকার করে মোনাজাতে কেঁদেছি আমি, নাক দিয়ে সর্দি বের হয়ে গিয়েছিলো, আল্লাহর কাছে শোকর জানাতে যেয়ে চোখের পানির বন্যা বইয়ে দিয়েছি অন্ধকার ঘরে। 

আম্মাকে সেই রাতে ফোন দিয়ে জানালাম, আমি কোরআন খতম দিয়েছি নিজে নিজে। হাফিজুলকেও জানিয়েছি। ছয় মাস আগে শুরু করেছিলাম হাফিজুলকে নিয়েই, কত কষ্ট করে প্রথম প্রথম পড়েছি, আজ সেই লালিত স্বপ্ন পূরণ করলাম। কল্পনাও করি নি, এতো পবিত্র, মাহাত্ম্যপূর্ণ রজনীতে আল্লাহ পাকের সেই পবিত্র কালাম কোরআন শরীফ যে রজনীতে নাযিল হয়েছিলো, সেই রজনীতেই খতম দিতে সক্ষম হবো। সব একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছা, সবকিছু তাঁর ইচ্ছা, তিনি না চাইলে কিচ্ছু সম্ভব হতো না। কিচ্ছু না। কিচ্ছু না। সেই মহান আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া জানাই।

শোকর আলহামদুলিল্লাহ

আল্লাহু আকবার



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি