ইরিটার্নে ইনকাম স্টেটমেন্ট ও ব্যালান্স শীট কিভাবে তৈরি করবেন?

 👉👉👉 ইরিটার্নে ইনকাম স্টেটমেন্ট ও ব্যালান্স শীট কিভাবে তৈরি করবেন?


🟢🟢🟢 ব্যবসা আয়ের ক্ষেত্রে যে দুটি ডকুমেন্ট খুব তাৎপর্য বহন করে, তাহলো ইনকাম স্টেটমেন্ট(IS) এবং ব্যালান্স শীট(BS)।

✍️✍️✍️ ইনকাম স্টেটমেন্ট অংশটিতে আপনার ব্যবসার নেট প্রফিট(Net Profit) কত হয়েছে সেটি জানা যায়। ইরিটার্ন সিস্টেমে প্রথমে ব্যবসার টার্নওভার(Turnover) বা সেলস(Sales) বা প্রাপ্তি বা বিক্রয় অংশ ইনপুট দেওয়ার পর এই সেলসের বিপরীতে আপনার খরচ কত হয়েছে, সেটি বাদ দিয়ে গ্রস প্রফিট ইনপুট দিতে হয়। সেলসের বিপরীতে যে খরচ হয়ে থাকে সেটাকে বলা হয় একাউন্টিং এর ভাষায় Cost of Goods Sold(COGS) । সূত্র হলোঃ
Gross Profit(GP) = Total Sales – COGS

➡️➡️➡️ সাধারণত বিভিন্ন ব্যবসা এর ধরণ অনুযায়ী গ্রস প্রফিট(GP) বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। এবং ব্যবসার ধরণ সাপেক্ষে জিপি রেটও পরিবর্তন হয়। জিপি রেট নিয়ে আমরা পরবর্তী কোনো আলোচনায় লিখবো।

➡️➡️➡️ এরপর এই গ্রস প্রফিট(GP) থেকে প্রশাসনিক খরচ বা ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য যে খরচ সেটি বাদ দিয়ে নেট প্রফিট(NP) পাওয়া যায়।
Net Profit(NP) = Gross Profit – Administrative Expense




🤚🤚🤚 এখানে যে বিষয়টি উল্লেখ্য যে, আপনি যদি আপনার ব্যবসার Books of Accounts সংরক্ষণ না করেন বা সহজ ভাষায় বললে হিসাবের খাতাপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করেন, সেক্ষেত্রে একাউন্টিং প্রাক্টিস অনুযায়ী গ্রস প্রফিট এর ১/৩ অংশ প্রশাসনিক খরচ দাবী করতে পারবেন। এখানে একটি বিষয় বলা বাঞ্ছনীয় যে, Books of Accounts এর মধ্যে নিরীক্ষীত আয় বিবরণী ও আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করার জন্য বিভিন্ন মানদণ্ড রয়েছে, যেমন- IAS(International Accounting Standards), IFRS(International Financial Reporting Standards), এ বিষয়গুলি আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৭৩ এ উল্লেখিত রয়েছে।

⚠️⚠️⚠️ আপনি যদি এর বেশি খরচ দাবী করেন, এবং তার বিপরীতে প্রমাণাদি উপস্থাপন না করেন, সেক্ষেত্রে আয়কর কর্তৃপক্ষ দাবীকৃত প্রমাণবিহীন বা যাচাই অযোগ্য খরচ অননুমোদন করতে পারেন এবং সাধারণত এরূপ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গ্রস প্রফিট এর ১/৩ অংশ প্রশাসনিক খরচ অনুমোদন করতে পারবেন। এটি আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৭৫ এ উল্লেখ আছে। তবে ১/৩ অংশ খরচ অনুমোদনের বিষয়ে আইনে সরাসরি বলা নেই, এটি প্রচলিত একাউন্টিং প্রাক্টিস অনুযায়ী করা হয়ে থাকে।

👉👉👉 ট্যাক্স এর ক্যালকুলেশনটি হয় এই নেট প্রফিট এর উপরেই। তবে যদি ব্যবসার টার্নওভার(Turnover) বা সেলস(Sales) বা প্রাপ্তি বা বিক্রয় ধারা ১৬৩(৫) এর ক্ষেত্র ও সীমা অতিক্রম করে, তখন টার্নওভার বা ন্যূনতম করের একটি হিসাব আসে, যেটি আমরা আমাদের আরেকটি আলোচনায় উল্লেখ করবো।

🟡🟡🟡 এই নেট প্রফিটটি আপনার ব্যবসার প্রারম্ভিক বা শুরু বা চলতি মূলধন বা Capital এর সাথে যোগ হয়ে ব্যালান্স শীটে অবস্থান করে। এ বিষয়টি পরবর্তী পর্বে ব্যালান্স শীট নিয়ে আলোচনার সাথে সবিস্তারে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

🤚🤚🤚 বিঃদ্রঃ কোনো ব্যবসা এর ইনকাম স্টেটমেন্ট ও ব্যালান্স শীট প্রস্তুত করা খুবই জটিল একটা প্রক্রিয়া, যেটি সাধারণত একাউন্টিং প্রফেশনালগণ যথেষ্ট মেধা ও প্রজ্ঞা মাধ্যমে করে থাকেন। আমি এখানে শুধুমাত্র সহজ ভাবে বিষয়টি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি 💙❤️💙

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি