শুকরিয়া
এসব দেখলে আসলে মনে হয় আল্লাহ আমাকে কতটা ভালো রেখেছেন, এরপরও তাঁকে ঠিকমতো স্মরণ করি না, স্রোতে গাঁ ভাসিয়ে দিয়ে মহানন্দে দিন কাটাচ্ছি, ইচ্ছেমতো নিজের জীবন নিজেই রচনা করি, নিজেই ভুল, ঠিক নির্বাচন করি, সকালে ঘুম থেকে জীবিত বেঁচে উঠার জন্য কোনো শোকরানা নাই, মাথার উপরে থাকার ছাদ আছে, তিন বেলা ভালোমতো খেয়ে বেঁচে থাকার অবস্থা আছে, ঘুমানোর জন্য আরামের বিছানা আছে, তবুও আমার মধ্যে কোনো শোকরানা নাই। আহারে... কাল মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিলো হঠাৎ, বাইরে বাতাসের শো শো আওয়াজ খুব ভালোই বুঝতে পারছিলাম, মনে হচ্ছে, অসম শক্তিতে বাতাসের একেকটা তোড় আসছে, আর বিল্ডিংকে ধাক্কা দিচ্ছে, দরজা জানালা সব কেঁপে কেঁপে উঠছে। আমি একটা চার তলা ভবনের সব থেকে উপরের তলায় থাকি, এজন্য ঘরে পানি উঠবার চিন্তা নেই, ইট পাথরের ইমারত তাই ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা নেই, ঘরে পানি ঢুকবার শঙ্কা নেই, আশেপাশে সমুদ্র নেই, যে জলোচ্ছ্বাসের তলিয়ে যাবো, সেই শঙ্কাও নেই... আর এই মানুষগুলো, আহারে, জীর্ণশীর্ণ ঘর, ঘরে সামান্য কিছু আসবাবপত্র, তাও বাতাসে নুয়ে পড়েছে, আরো একটু জোরে ঝাপটা দিলেই মড় মড় করে ভেঙ্গে পড়বে, তবুও সে সেই ভিটেটুকু বাঁচানোর জন্য জানের পর...